শুভজন্মদিন
হাফিজ রশিদ খান: কবিতাঞ্জলি
পুবাকাশ
[হাফিজ রশিদ খান : আশিদশকের ভিন্ন স্বরের কবি ও মননশীল প্রাবন্ধিক। তাঁর লেখালেখির মাধ্যমে বারবার আমাদের টেনে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদিবাসী, উপজাতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে। তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধে এ নৃ গোষ্ঠীর যাপিত জীবনের রূপ রঙ আর যন্ত্রণার শিল্পভাষ্য নির্মাণ করেছেন বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, বিশেষ করে মারমা ও চাকমাদের জীবন ও সংস্কৃতির গভীর মর্মমূলে গিয়ে চেষ্টা করেছেন তিনি তাদের যাপিত সত্যকে উদঘাটনের। তাঁর নিরন্তর এষণায় এ জীবনের সৌরভ আর যন্ত্রণা স্পর্শ করে যায় বাঙলাভাষী পাঠকহৃদয়ে।
একারণে আদিবাসী জীবন ও সংস্কৃতিচর্চার ভুবনে হাফিজ রশিদ খান ভিন্নতর বৈশিষ্ট্যের শব্দকারিগর। তাঁর কাছে বাঙলা কবিতা অনন্যমাত্রায় ঋণী হয়ে থাকবে।
২৩ জুন ২০২২ এ শিল্পঋষির ৬১ তম জন্মদিনে পুবাকাশ পাঠকের জন্য নিবেদন করছে ‘ নাইতং পাহাড়ের গল্প’ কবিতাটি । সুস্থ ও নিরাপদ হোক কাব্য যাপন। সম্পাদক : পুবাকাশ ]
নাইতং পাহাড়ের গল্প ⭕ হাফিজ রশিদ খান
নাইতং পাহাড়ের অনেক ওপরে
হাতলবিহীন কাস্তের মতোই
একফালি চাঁদ
তারার আকাশে একা হাসে
ম্রো-পল্লির ঘরে-ঘরে ঘুমের নিরালা পরি
আবেশ ছড়ায় রাতে
জুমখেতের ভেতরে নড়েচড়ে রোমশ শরীর–
শস্যলোভী জানোয়ার
ঘুম ভেঙে যায়
পাশ ফিরে শোয় একটি যুবক
বিছানার ওম ছেড়ে জাগে ধীরে
বেড়ায় বেতের আংটায় ঝুলানো প্লুং
হাতে নিয়ে
মাচাংয়ে নগ্ন সুর তোলে
জাগে ম্রো-পল্লি, বিপুল শব্দে-শব্দে
আসে প্রতিবেশী
ভূমিশয্যায় জানোয়ারটা
পড়ে থাকে
রক্তাক্ত, নিথর …
প্লুং : ম্রো আদিবাসী শব্দ। যৌথবাদনের উপযোগী একধরনের সুরেলা বাঁশের তৈরি বাঁশি।
কবিতাটি তো মনোরম লেগেছে, মাশাআল্লাহ। পাহাড়, ওখানের নৃগোষ্ঠী প্রভৃতির ওপর কবির সংবেদনপর মন খুব ঘনিষ্ঠি বুনেছে।