একগুচ্ছ কবিতা
ওমর বিশ্বাস
পুবাকাশ
আজ আষাঢ়ের শুরু
আজ আষাঢ়ের শুরু
কদম কেয়া ফুলের বনে
নামবে ধারা আপন মনে
কিসের খেলা! বৃষ্টির
পড়বে সাড়া সৃষ্টির
আজ থেকে তার শুরু।
মেঘের খেলায় মেঘের দল
করছে কোলাহল
ছলাৎ ছলাৎ সুরে
সারা আকাশ জুড়ে।
নামবে ছুঁয়ে মেঘের শরীর
আকাশ থেকে ওই
সুক্ষ্ম চিকন গরমগুলো
কোথায় যাবে কই!
মেঘের খেলায় বৃৃষ্টি হলে
ভরবে সুবাস ফুলে ফলে
মেঘে মেঘে ভাসার
আজকে শুরু আষাঢ়।
১ আষাঢ়, ২০২৯
১৫.০৬.২০২২
জুম্মার কাতার
দুপুরের বোধ জুম্মার কাতারে এসে জড়ো হয়
জুম্মাবার জুম্মার দিনে!
সময়ের হৃৎ-পকেটে জমা ছিল মধ্যবর্তী প্রান্তিক স্টেশনে পৌঁছানোর অস্থির তাগাদা
অপেক্ষার সমস্ত সৌন্দর্য স্নিগ্ধতার ভিতর তৃষ্ণার্ত মন নিয়ে
দ্রুত এসে ঢুকে পড়ে শুভ্রতার আকাঙ্ক্ষায়
অনুভবে বন্দনার বাতাস সপ্তাহব্যাপী ঘুরতে ঘুরতে সুপ্ত আশা নিয়ে
জীবন সংসার আর সমাজের উপহার হয়ে আসে।
আজ মোলায়েম সকাল নরম মোমের মতোন গলে
নিঃস্ব করে দিতে চায় নিজেকে নিঃস্বার্থ প্রার্থনায়
অস্তিত্বকে শানিত ফলার মতো তীক্ষ্ম বোধে জাগ্রত করার
অভিলাষে তৃপ্ত হয়ে ওঠে
মেজাজি রোদও এই সুযোগে নিজেকে মেলে ধরে অন্য উচ্চতার কোলে
মানুষের মস্তিষ্কের কোষগুলোতে তীরের ফলার মতো
বিদ্ধ করে শুদ্ধ সুরতের বাসনায়
একটু যদি থিতু হয় এ সুযোগে।
আমাদের বিবেক গত সাতদিনে লাগামছাড়া দিনযাপনের
হিসাব নিকাশ বুঝে নিতে তার কতটুকু ব্যস্ততা দেখায় জানে
ঘুরপাক খাওয়া বাতাসের বেগ। নিরন্তর জগত জুড়ানো আবেগের
রশ্মিগুলো সব ফেলে একান্তে শামিল হয় ঘর্মাক্ত পাখির নীড়ে ফেরার মতোন।
জুম্মাবার!
আমাদের প্রার্থনায় এসে ভীড় করে আসমানী ফেরেশতারা
হৃদয়ের ভাষাগুলো টগবগে কথার ধ্বনি নিয়ে ছুটে যায় তরঙ্গ আবেগ
চারিপাশ ঘুরে ঘুরে ধাবমান আকুতিগুলো সবেগে ঝড় তোলে
আজ যত কিছু আসে সব এসে জড়ো হয় জুম্মার কাতারে।
০৩.০৬.২০২২
রাস্তা
রাস্তার হক আছে রাস্তার অধিকার
বুঝে চলো রাস্তায় সীমা মেপে যার যার
চলাচলে দিও নাকো কারো বিঘ্ন ও বাধা
হোক না তা পিচঢালা নয়ত বা আঁকাবাঁকা।
দৃষ্টির সীমা আছে হাঁটো নত চোখে মুখে
ধীর পায়ে ধীরে ধীরে মম মায়া নিয়ে বুকে
কেউ যেন পায় নাকো একটুও কষ্টের
তুলে ফেলো বাধাগুলো ময়লা ও নষ্টের।
যদি পাও ভুল কিছু তুলে নিয়ে দাও ফেলে
ছেলে মেয়ে ছোট বড় বাধাহীন হেসে খেলে
গাড়ি ঘোড়া যাক ছুটে শান্তিতে অবিরাম
গন্তব্যটা হোক নিরাপদ সবিরাম।
উচু নিচু মানুষের চলাচলে ভেদ নাই
সাধারণে রাস্তার অধিকার বলে তাই।
২৯.০৪.২০২২
বাজারের হালচাল
দাম কেন বাড়ে? বাবা, বলে না তো কাহিনী
দাম নিয়ে খেলা করে বাজারের বাহিনী।
জিনিসের দাম বেড়ে নাগালের বাইরে
ছুটছে সে ছুটছে যে থামাথামি নাইরে।
বাজারের খরচায় লাগে কত টাকা
বাবার-ও পকেটটা প্রায় থাকে ফাঁকা।
তাই বাবা দিশেহারা নার্ভাস খুব
দাম শুনে দমে যায় একেবারে চুপ।
গিয়ে দেখি একি হাল সেদিনের বাজারে
গোলমাল ঝগড়ায় কাছাকাছি হাজারে।
কষাকষি দর-দামে মন-মানে টানাটানি
হাতাহাতি কাটাকাটি কথা নিয়ে কানাকানি।
দাম নয় গোলা বাজে কামানের দুড়ুম
হতবাক জনগণ আক্বেল গুড়ুম।
দাম শুনে হতবাক বেক্বেল আলী
উড়ে গেছে টাকা তার পকেটটা খালি।
জিনিসের দাম বেশি খাবে কিবা মানুষে
শাক-কচু মূলা কেনে পাঁচ পোয়া আলু সে।
কত হলে টাকা তার কেনা যাবে সবজি
দিলে হাত পকেটেতে আটকায় কব্জি।
তাই আমি বলি নাকো এটা ওটা চাই
আব্বুর টানাটানি থাকে যদি তাই।
০৫.০৪.২০২২
সদর দরজা
সদরঘাটের সদর দরজা
দিলাম খুলে ভোরে
লঞ্চ চলেছে নতুন কোথাও
ঢেউয়ের তালে জোরে।
আবারও তো পথ হারালাম
পথে পথে বাঁক হারালাম
বাঁকগুলোতে শখ ছড়ালাম
ছন্দ ছড়ায় শোর
সূর্য ওঠা ভোর
শখের সাথে স্বপ্ন নিয়ে দৌড়।
শান্ত নদীর বুকের ভিতর
লুকিয়ে আছে হৃদয় কি তোর
খেয়াগুলো নদীর তারা
আনন্দ আজ আত্মহারা।
১৮.০৩.২০২২
আমরা দু’জন
আমরা দু’জন বাবা-ছেলে
চলছি পথে হেসে-খেলে
দিচ্ছি পাড়ি উঁচু-নিচু
সাগর পাহাড় অনেক কিছু।
সামনে অনেক বাধা আসে
মেঘের ফাঁকে সূর্য হাসে
যাচ্ছে সময় যাচ্ছে বেশ
শিখলে বয়স নাই তো শেষ।
শিখছি দু’জন ইচ্ছেমতো
আসছে বিষয় কত-শত
কেমনে হবে ভুবন জয়
জানছি জীবন থামার নয়।
ভীষণ ব্যস্ত বাবা-ছেলে
কাটছে সময় হেসে-খেলে।
২৭.০১.২০২০
মন মননের পাখাতে
শহর ছেড়ে ঘুরতে আসি
গাছ প্রকৃতির কাছাকাছি
লতাপতার শাখাতে
মন মননের পাখাতে।
আমরা দেখি রঙের মেলা
আকাশ পাতাল রঙিন ভেলা
সজীব তাজা মনের সুর
রাখতে ছুটি অনেক দূর।
আমরা যখন ঘুরি
পাখির সাথে উড়ি
ফুল ফসলের শিষে
যাই সকলে মিশে।
আমরা হারাই উড়াল ডানায়
তারাও খুশি বিশ্ব জানায়।
১১.০৬.২০২২

ওমর বিশ্বাস : কবি ও সমালোচক।