রেহেনা মাহমুদ
স্থানান্তর
হারিয়ে যাবার খবর দিতে নেই
সব হারানোই শোকের
কেউতো আর জানেনা সমস্ত সুখ গুটিয়ে গুছিয়ে
খোলসে বদ্ধ করে আমি তোমার ভেতর বিলীন হয়ে আছি
সংসার পেতেছি সুরক্ষিত জমিনে পরম নিশ্চিন্তে
এটাকে ঠিক হারানো বলেনা
স্থানান্তর বলা যেতে পারে
হারিয়ে কি আর যায় কেউ?
কোথাও না কোথাও তো থাকেই
কেবল যেখানে থাকেনা সেখানে শুণ্যতাটা টের পাওয়া যায়
টেরও বা কে পায়!
কে-ই বা খুব গভীর করে কাউকে অনুভব করে আজকাল।
অণুজীব বা শ্রেষ্ঠজীব
করোনা বোঝেনা-
কে শাদা কে কালো
মানুষ বোঝে
মানুষ, সে তো শ্রেষ্ঠ ।
মানুষ সে তো দেঁতো দেও
কামড়ে খুবলে খায় দুর্বলেরে
অভিযোজন অযুহাতে।
মানুষের আছে কুতকুতে দু’চোখ
করোনার নেই
তাই সে দেখেনা
কে কোন লিঙ্গের
কাকে ধর্ষিত করে ফেলে রেখে যায় রাস্তার ধারে
মানুষ জানে।
জানে কে ধনী; কে হতদরিদ্র
কার পেটে লাথি মারলেই
পাওয়া যায় পৈশাচিক আনন্দ।
করোনা জানেনা নিজেদের জাত পাতের হিসেব
মানুষ জানে মানুষকেই মেরে, কেড়ে কি করে বুক ফুলিয়ে দাঁড়ানো যায়
বুলেটে উড়িয়ে দেয়া যায় নিমিষে সকল স্বপ্ন
করোনা জানে না, এসব কিচ্ছু জানে না।
করোনা জানে না কে মুসলিম, কে হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান
এটুকুও জানেনা -সে নয় আশরাফুল মাখলুকাত
নয় মানবের মত শ্রেষ্ঠ,
সে নিকৃষ্ট এক নীচু ক্ষুদ্র অনুজীব মাত্র
নেই কোন বাছ বিচার শ্রেষ্ঠ জীবের মত।
০২/০৬/২০
অনিশ্চিত গন্তব্য
এই ভোর কিংবা পরবর্তী ভোর সকলের জন্য অনিশ্চিত।
অনিশ্চিত আমাদের এ দীর্ঘ যাত্রা।
দ্রুত পায়ে ছোটা মর্নিং ওয়াক করা সচেতন মানুষেরা
জানেনা কাল ঠিক এ পথেই আর আসবে কিনা
যে পাখি খড়কুটো জোগানের জন্য উড়ে গেল সে আর ফিরবেতো?
কথায় বিভোর এ ভোরের প্রেমিকযুগল জানেনা আগামী ভোরের গল্পটা কেমন হবে
আই সি ইউ এ নিথর হয়ে পড়ে থাকা স্বামীর অপেক্ষায় যে বধু, সে অনিশ্চিত একসাথে আর কোন ভোর দেখবে কী না
ঘরের মানুষটি কাজ সেরে ঘরে ফিরবে কী না ক্লান্ত শরীরে; অনিশ্চিত
আলতো চুমু খেয়ে বেড়িয়ে পড়া বাবারা সন্তানকে একটি সুন্দর ভোর দেখাতে পারবে কী না অনিশ্চিত
এক অনিশ্চিত ভোর আসবে বলে তবু প্রতীক্ষায় থাকি আমরা সবাই।
শশশশশ….
অ তে অজগর অই আসছে তেড়ে….
অজগর আর তেড়ে আসেনা
সে আমারে প্যাঁচায়া রাখসে
আর আমার মগজ খায়া বড় হইতাসে
তার জিব্বা খালি লিকলিক করে।
আমি নির্বিরোধী মানুষ
বেবাক কিছুতে নির্বিকার থাকি
আমারে প্রেম করে,করুক
আমারে অপমান করে,করুক
আমারে অবহেলা করে, করুক
কুকুর ভাইবা লাত্থি মারে,মারুক
আমি বোবা হয়া মটকা মাইরা থাকি
জানি বোবার শত্রু নাই।
বাইরে আমার শত্রু নাই ,
ভিতরে পরম শত্রু বইসা আমার হাড্ডি চিবায়।
সে সময় অসময় ফোঁসফোঁস করে,
ফনা তুলবার চায়
আমি যাইত্তা ধইরা তার মুখ বান্ধি
তারে দুধের বাটির লোভ দেখাই
আমরা দুইজন চরম যুদ্ধ করি
দুইজনেই ক্লান্ত হই
আর ঘুমায়া পড়ি কিছুকাল
শীতনিদ্রায় যাই।
তারপর সে আবার জাইগা উঠে,
ফোঁসফোঁস করে আর
বেবাক তছনছ করবার চায়।
১৯/০৬/২০
রেহেনা মাহমুদ : তরুণ কবি
আপনার কবিতা ভালো লাগলো। ধন্যবাদ