প্রতিবাদী পদাবলী 🟥 সিআরবি রক্ষা আন্দোলন
খবর আছে খবরদার 🟩 তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী
রজব আলী সূর্য সেন আর প্রীতিলতার এই চাটগাঁয়,
আমজনতার ধার না ধেরে,
কোন্ বেনিয়া ভাগ বসায়!
ইট পাথরের এই শহরে মন করলে হাঁসফাঁস,
আমরা ছুটি শিরীষ তলা নিতে নির্মল শ্বাস।
সিআরবি শিরীষ গাছে পাখ পাখালীর গান,
মুক্ত হাওয়া চাঙা করে জুড়ায় মোদের প্রাণ।
এই মাটিতে শুয়ে আছে
অনেক মুক্তি সেনা,
তাদের বুকে কোদাল হেঁকে এমাটি যায় কি কেনা ?
সিআরবি তো ফেলনা নয় ঐতিহ্য -হেরিটেজ,
খেলার ছলে একে দলে কার
সে এতো তেজ !
সময় আছে পথ খুঁজে নাও, পথ খুঁজে নাও পালাবার,
চাটগাঁইয়ারা উঠলে ফুঁসে খবর আছে খবরদার।
এই ছায়াবৃক্ষ 🟩 আরিফ চৌধুরী
এই সবুজে ঢাকা সৌন্দর্যময় লাবন্য প্রহর আমার চিরচেনা
এখানে পাখির ডাকে ভোর হয়
পাতা ঝরার শব্দে ঝরে বৃষ্টির ধারাপাত
এই শান্ত নিলীমায় ডেকে ওঠে নীলকন্ঠ পাখি
পাখিরা বাসা বাঁধে বৃক্ষের ডালে
এই সুন্দর ছায়াবৃক্ষের ছায়ায় জুড়াবো প্রাণ
প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেবো
যেখানে শীতল হাওয়া প্রকৃতিকে ডাকে মায়াবী ছোঁয়ায়।
আমরা কখনো হারাতে চাইনা লাবন্য ছোঁয়া ছায়াবৃক্ষের মায়া।এই নান্দনিক সৌন্দর্যময় প্রকৃতি এই শহরের সকল সৌন্দর্য প্রেমির, তাকে কেড়ে নিতে দেবোনা।
ওর কারা, কোন সে দানব,লুটেরার দল,
ওদের রুখতে হবে,ওদের রক্তচক্ষুকে ভয় করিনা,
আমরা হাতে হাত রেখে এই দানবদের বিষ দাঁত ভেঙে দিতে।
এখানে রয়েছে জমা শতবর্ষের ইতিহাস, ঘুমিয়ে আছে আমাদের মুক্তির বীর সেনানী,
এই বিপুলা প্রকৃতিকে বাঁচাতে আজ আমরা হয়েছি সোচ্চার,
আমাদের জয় হবেই, হবে।
ছায়া 🟩 নাজমুন নাহার
বিক্ষিপ্ত ছিলাম নদী থেকে, ডাকলে তুমি ,চলে এলাম গভীর খাদের কিনারে ,
চোখে ভরা জল , নদী হাঁটে তেছরা হয়ে , গভীর থেকে গভীরে চলে যাবার বেলায় পেছন দিক থেকে দেখি তুচ্ছ ঘাসের কিনারে বাগান বিলাস।
সবগুলো পর্দা দুলে দুলে ওঠে , মঞ্চ থেকে আসে আহত হরিণের আর্তনাদ
ওগো মেয়ে তুমি জলে বুঝি ? কাঁদছ কেন ?
ছুড়ি ছেঁচে ছেঁচে শান দিয়ে চলে যায় নগর বাসী ,নাজারেত থেকে ছুটে আসে যীশুর ছায়া ,তুমি এখনো পথ হারিয়ে বিচ্ছিন্ন হেঁটে যাও –
নেমে যাবে আলো সব , অন্ধকার আলোর ছায়া খোঁজে বৃক্ষ সকলের বায়োগ্রাফী –
আমি অস্থির আত্মা , মৃত্যুর পেছন থেকে দেখি জীবন এক অমল ছায়া –
শৈশব 🟩 সবুজ ভট্টাচার্য্য
আমপাতা গুলাে-
এখনাে জোড়া বাঁধে কিন্তু,
ছােটবেলার মত কন্ঠে সুর বাঁধেনা।
মনে আছে?
ছন্দের বাঁধনে বাঁধা সে মামা বাড়ি-
আমের মুকুল আসে। কিন্তু –
ঝড়ের দিনে ব্যস্ত জীবন পেরিয়ে,
আম কুড়ানাে আর হয়না।
কল্পনার হাট্টিমাটিমটিম আজো- সিং উচিয়ে ডাকে।
কিন্তু, চিৎকার করে প্রতিউত্তর করা হয়না এখন।
খুব বেশি ইচ্ছে করে, ছুটি শৈশবের বাঁকে।
সৈই ছােট নদী, সেই হাঁটুজলে;
এ নগরজীবন থেকে।
সকালে যারা ভুল করে হলেও উঠি, তাদের কেউ-
সারাদিন ভালাে হয়ে চলার কথা ভাবিনা।
ভাের হয়, দোর খােলে কিন্তু,
বুড়াে খুখুমনিরা তাে জাগেনা।
মৃত কাজলা দিদির বােন?
আজো অন্তরে মিশে আছে।
তার সখের পুতুল খেলা প্রায়- পুরােটা হারিয়ে গেছে।
বীরপুরুষ হবার স্বপ্ন- আজ আটকা পরেছে পর্দায়।
পর্দার এ যুগে, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা-
প্রায় একই রােগে ভােগে।
সাপলুডু থেকে ক্রিকেট,
পর্দায় সব বিশ্বজয়ী ক্রীড়াবিদ।
মিষ্টি ছিল সৃষ্টিশীল সেই মধুর শৈশব-
ঢেকে গেছে সব, যা আছে তা মিথ্যে কলরব।
মুখোশ 🟩 মাসুদুর রহমান মাসুদ
মস্ত চোয়াল লকলকে জিভ
মানুষ কে কুরে খায়!!!
মানুষ সংসার গড়ে
লোভীরা আমার আমার করে রূপ বদলায়।
তারপর হেঁটে হেঁটে ধান আসে,গান আসে
গাঙ ভরা মন ভাসে।
স্বপ্নরা উল্লাসে উঠায় তোরণ
সুখের পিছনে ছোটে প্রাণ
মানুষ আমরণ।
ফুটো করে মোহময় ছাদ
হাওয়ার বিছানা ভেসে
ছুঁতে চায় মানুষ একফালি চাঁদ!
অনায়াসে পেতে চায় সোনার পালংক।
যেতে যেতে নদীর মতোন
খুঁজে শুধু জলের আড়ং।
জীবনের ভুল হয়ে গেছে যা অতীত
তবুও তা ফিরে অতর্কিত;
মানুষের মতো পাখিদের গান
আছে কি এমন বেদনার গীত?
পৃথিবীর জরায়ু করে চিৎকার!
শুনি কার সর্বনাশা
নষ্টদের দুঃষহ শীৎকার!
দেখি অসীম বিস্ময়ে
দুর্জন মাঠের পাড়ে
কাকেরা কোকিল সেজে।
নিস্ফল অদ্ভুত স্বরে-
কা-কা করে কেড়ে নেয়
পাখির কূজন।
এরাই মানুষ আজ-
সমাজে আস্থাভাজন।