হায়াসিন্থ, মিথলজি ও রজনীগন্ধা।। রওশন হাসান।। পুবাকাশ
ফুলটির নরওয়েজিয়ান নাম স্বিবেল (Svibel). ইংরেজী নাম হায়াসিন্থ (Hyacinth)। হায়াসিন্থ এসপ্যারাগাস প্রজাতির l ঘরময় সুঘ্রান ছড়িয়ে ফুটেছে বেগুনী, গোলাপী, সাদা হায়াসিন্থ l অবয়ব ও ঘ্রাণে রজনীগন্ধার সাদৃশ্যে আমাকে বিভোর রাখে প্রকৃতিময় l
রবীন্দ্রনাথ যেমন গেয়েছিলেন পুষ্প সৌন্দর্যের পংক্তি :
হে বিদেশী ফুল, যবে আমি পুছিলাম–
“কী তোমার নাম’,
হাসিয়া দুলালে মাথা, বুঝিলাম তরে
নামেতে কী হবে।
আর কিছু নয়,
হাসিতে তোমার পরিচয়।
হে বিদেশী ফুল, যবে তোমারে বুকের কাছে ধরে
শুধালেম “বলো বলো মোরে
কোথা তুমি থাকো’,
হাসিয়া দুলালে মাথা, কহিলে “জানি না, জানি নাকো’।
বুঝিলাম তবে
শুনিয়া কী হবে
থাকো কোন্ দেশে।
যে তোমারে বোঝে ভালোবেসে
তাহার হৃদয়ে তব ঠাঁই,
আর কোথা নাই।
হে বিদেশী ফুল, আমি কানে কানে শুধানু আবার,
“ভাষা কী তোমার।’
হাসিয়া দুলালে শুধু মাথা,
চারি দিকে মর্মরিল পাতা।
আমি কহিলাম, “জানি, জানি,
সৌরভের বাণী
নীরবে জানায় তব আশা।
নিশ্বাসে ভরেছে মোর সেই তব নিশ্বাসের ভাষা।’
According to Wikipedia :
Hyacinthus is a small genus of bulbous, fragrant flowering plants in the family Asparagaceae, subfamily Scilloideae. These are commonly called hyacinths /ˈhaɪəsɪnθs/. The genus is native to the eastern Mediterranean (from the south of Turkey through to northern part of the region of Palestine).
পুরাণে বর্ণিত আছে, হায়াসিন্থাস ছিলো একজন সুদর্শন স্পার্টান তরুণ এবং সূর্যদেবতা অ্যাপোলোর বন্ধু। অ্যাপোলো এবং হায়াসিন্থাস প্রায় সময়ই বিভিন্ন খেলাধুলা আর আড্ডায় মেতে থাকতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত একদিন চাকতি ছোড়াছুড়ি খেলার সময় অ্যাপোলোর ছোড়া চাকতি হায়াসিন্থাসের মাথায় আঘাত করে এবং হায়াসিন্থাস সাথে সাথে ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। নিজ হাতে বন্ধুর এই করুণ পরিণতি দেখে অ্যাপোলো শোকে উন্মত্ত হয়ে পড়েন। তিনি হায়াসিন্থাসের মৃতদেহ আর আত্মাকে পাতালপুরীতে নিয়ে যেতে বারণ করেন, আর তার পরিবর্তে যেস্থানে হায়াসিন্থাসের মৃত্যু হয়েছিলো সেস্থানেই তার মৃতদেহ থেকে একটি ফুলগাছ তৈরি করে তার নাম দেন হায়াসিঙ্কস বা হায়াসিন্থ। অনেকের মতে,হায়াসিন্থ ফুলের পাপড়িগুলোতে যে দাগ দেখা যায়, তা আসলে বন্ধুর শোকে অ্যাপোলোর চোখের অঝোর অশ্রু ।
হায়াসিন্থাসের মৃত্যুর পর অ্যাপোলোর নির্দেশে প্রতি বছর স্পার্টাতে হায়াসিন্থাসের স্মরণে হায়াকিন্থিয়া উৎসব নামে তিন দিনব্যাপী একটি উৎসব উদযাপিত হতে থাকে।
রাতে ফোটা ফুল রজনীগন্ধা l নামকরণ উৎপত্তি রাত ও ঘ্রাণ সংবলিত l ইংরেজি নাম Tube rose, পরিবার Amaryllidaceae, উদ্ভিদতাত্তি্বক নাম Polianthes tuberose।
শত বছর আগেও এই ফুল কেবল মেক্সিকোতেই শোভা পেত। কারণ ওটাই রজনীগন্ধার জন্মস্থান । ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের আগমনের পর এ ফুলের পরিচিতি ঘটে ভারত ও সংলগ্ন দেশে । উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু রজনীগন্ধা চাষের উপযুক্ত এবং এ ফুলের সৌন্দর্য ও ঘ্রাণের কারণে ফুলটি সকলের প্রিয় হয়ে ওঠে l বাংলাদেশেও রজনীগন্ধার ব্যাপক পরিচিতি ও চাহিদার কারণে সর্বত্র এ ফুলটির চাষাবাদ রুফটপ, ব্যাকইয়ার্ড ও ফ্রন্টইয়ার্ডে হচ্ছে l
রওশন হাসান : কবি ও প্রাবন্ধিক। নিউইয়র্ক প্রবাসী।