বানর রাজা চীনা পুরাণ (উপন্যাসিকা)
চীনের এক সুপার হিরোর গল্প (দ্যা জার্নি টু দ্যা ওয়েস্ট থেকে)
অ্যারন শেপার্ড অনুবাদ পান্থজন জাহাঙ্গীর

প্রিরিভিউ:
আপনি যদি সুপারম্যান বা স্পাইডারম্যানের কাহিনী দীর্ঘকাল ধরে থাকবে বলে মনে করেন তাহলে এই বানর সম্পর্কে একবার ভাবতে পারেন সে চীনের সুপার হিরো হিসেবে পাঁচশত বছর ধরে জনপ্রিয় হয়ে আছে। সে আশ্চর্যজনকভাবে শক্তিশালী, সে উড়তে পারে এবং তার এমন কিছু কৌশল জানা আছে যা অন্য সুপার হিরোরা কখনো শুনেইনি। আর সে সবসময় প্রস্তুত, শয়তান, ড্রাগন এবং কখনো দেবতা বা ঈশ্বরের সাথে যুদ্ধ করতে। এই বানর ষোড়শ শতাব্দীর দ্যা জার্নি টু দ্যা ওয়েস্ট নামক এক মহাকব্যিক কমিক ফ্যান্টাসির নায়ক। বানরের যে কাহিনীটি এখানে পুনর্কথিত হয়েছে তা হচ্ছে তার উৎপত্তি ও শুরুর দিককার ক্যারিয়ার-এবং একসময় সে আর উপর থেকে বের হয়ে আসতে পারেনা। অথচ সে অমরত্ব এবং জাদুশক্তি লাভ করার পর স্বর্গকে চ্যালেঞ্জ করে।
ধরণ:ফ্যান্টাসি
সংস্কৃতি:চায়না
থিম:ঔদ্ধত্য
বয়স:১০+

তৃতীয় পর্ব ।। ড্রাগন রাজার উপহার
প্রাচ্য সাগরের নিচে, ড্রাগন রাজার সবুজ রাজপ্রাদ। ছোট ছোট সামুদ্রিক প্রাণীর খোসা দিয়ে তৈরি রাজপ্রাসাদের গেইট। গেইটের সামনে ড্রাগন রাজার ক্যাপটেইন প্রহরী পাহারা দিচ্ছিল। এই গেইটের সামনে, বানর পায়চারি করছিল। ক্যাপটেইন বিস্ময়ের সাথে তার ওপর অপলক দৃষ্টি ফেলল।
-আমি এখানে ড্রাগন রাজার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছি। বানর ঘোষণা দিল। তাকে বলুন ফুল ও ফলের পর্বত থেকে বানর রাজা এসেছেন। খুব তাড়াতাড়ি করো।
-জি স্যার, ক্যাপ্টেইন স্যালুট দিয়ে বললেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে ক্যাপ্টেইন বানর রাজাকে সিংহাসন কক্ষে নিয়ে গেলেন।
-স্বাগতম, ভাইজান, ড্রাগন রাজা স্বাভাবিক স্বরে বললেন। কত মহৎ আপনি! না হলে এই অপ্রাতাশিত সাক্ষাত।
-না, না, তা আর বলবেন না, বানর বলল।
বলুন ভাইজান, ড্রাগন রাজা বললেন, জলের নিচে বাস করার শিল্প আপনি কিভাবে রপ্ত করলেন?
-আমি বহুবছর ধরে এ পথের যাদুশিল্প পড়াশুনা করেছি, বানর বলল। এই কারণে আজ আমি এখানে। সেজন্য আমি এখন অমর, আমার এখন একটা যাদুর অস্ত্র প্রয়োজন, যেটি আমার সামথ্যের সাথে খাপ খাবে। অপনার কি অতিরিক্ত একটা যাদুর অস্ত্র হবে?
-একজন অমর! ড়্রাগন রাজা মন্তব্য করলেন। ঠিক আছে, এখন আমি হয়তো আপনার জন্য একটা অস্ত্র খুঁজতে পারি।
-ক্যাপ্টেইন, অনুজ্জ্বল চাঁদের তরবারি খানা নিয়ে এসো। ক্যাপ্টেইন একটি বড় তরবারি নিয়ে আসলো। বানর এটা নাও এবং বাতাসে কয়েকবার চালিয়ে এসো দেখি।
-এতো হাল্কা! এতো হাল্কা! ড্রাগন রাজা হাসতে লাগলেন।
-ভাইজান, আপনি অবশ্যই কৌতুক করছেন। এই তরবারির ওজন একশ পাউন্ডের কাছাকাছি।
-এটা ঠিক মনে হচ্ছে না। বানর বলল।
ড্রাগন রাজা চারদিকে কিছুটা গুরুত্ব দিয়ে তাকালেন।ক্যাপ্টেইন দ্বি প্রহরের সূর্যের যুদ্ধ কুড়ালটি নিয়ে এসা।
ক্যাপ্টেইন তা নিয়ে আসলো। তারপর বানর এটিও কিছু সময় দোলালো। এখনো খুব হাল্কা। লড়াইয়ের জন্য খুব হাল্কা। এখন ড্রাগন রাজা সত্যি ভয় পেয়ে গেলেন। 
-ভাইজান এই অস্ত্রটির ওজন একহাজার পাউন্ডের বেশি।
-আমার আরো ওজন দরকার। আপনার কি এর চেয়ে ভারি কোন কিছু নেই? বানর ঘোষণা দিলো।
-আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি। ড্রাগন রাজা বললেন, ওটি হচ্ছে রাজপ্রাদের সবচেয়ে ভারী অস্ত্র! ঠিক তখনই সিংহাসনের পেছনের দরজা দিয়ে ড্রাগন রাণী প্রবেশ করলেন। বানর কে কুর্নিশ করে সম্মান জানালেন। তারপর ক্ষীণস্বরে ড্রাগন রাজাকে বললেন, মনে হচ্ছে বানর কোনো সাধারণ শিষ্য নয়। আমি মনে করি, তোমার তাকে কোষাগার থেকে দৈত্যাকার রড দেয়া উচিত।
-ওই পুরাতন লোহার টুকরো। ড্রাগন রাজা কানে কানে বললেন।
– সে এটা দিয়ে কি করবে?
-সেটা তার ব্যাপার, আমাদের নয়। তীক্ষèস্বরে রাণী বললেন। তুমি শুধু তাই তাকে দাও আর প্রাসাদ থেকে বাহির করো।
রাণী বানরকে কুর্নিশ করলেন আর চলে গেলেন।
ড্রাগন রাজা ভয়ে তার গলা পরিস্কার করলেন। 
-আমার মনে পড়ছে আমার কোষাগারে মহামতি চুর একটি লোহার রড ছিল। তিনি এটি দিয়ে মহাপ্লাবনের সময় নদী বা সমুদ্রের তলা পস্কিার করতেন। হয়তো এটি আপনার প্রয়োজন মেটাতে পারবে।
-এটি নিয়ে আসুন, আমরা একবার দেখি। বানর বলল।
-আমার ভয় হচ্ছে, ওইটি আনা অসম্ভব। ড্রাগন রাজা বললেন, এটার ওজন দশ টন। আমাদের কেউ এটা তুলতে পারবে না। আমাদের সবাইকে যেতে হবে এটা দেখতে।
তারপর প্রাসাদের আঙ্গিনা দিয়ে ড্রাগন রাজা বানরকে তার ধনভান্ডরে নিয়ে গেলেন। তারপর কালো লোহার একটি স্তম্ভের দিকে আঙ্গুল তুললেন। এটি ছিল বিশ ফুট উচু ,এর পুরত্ব ছত্রিশ গ্যালন ধারণকারি চোঙানলের সমান,এবং দুইপ্রান্তই স্বর্ণের তৈরি টিপ দিয়ে আটকানো। বানর এর সন্নিকটে আসলো। তখন  এটি প্রচন্ড গরমে দ্বীপ্তি ছড়াচ্ছিল।
-এটি তো আমার মতো।
তিনি আরো কাছে গিয়ে পিলারটি নীরিক্ষা করছিলেন এবং নিচ প্রান্তের নির্দেশনার বৈশিষ্ঠ্যগুলো দেখতে পেলেন।
অনুগত লোহাটির রাসায়নিক কর্মী
বানর দুই হাত লোহাটির উপর রাখলেন এবং এটিকে আলগিয়ে তুললেন। জল টলমল চোখে ড্রাগন রাজা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। 
-ওজন মনে হচ্ছে ঠিক আছে। যদি কেবল এটি ছোট হয়ে যেত! বানর বললো।
সাথে সাথে এটির রাসায়নিক বস্তুগুলো সংকুচিত হয়ে পনেরো ফুট হয়ে গেল এবং পাতলা হয়ে গেল।
-চমৎকার! বানর বলল। এটি তো সত্যিই অনুগত। আরো যদি ছোট হতো তাহলে দারুণ হতো। এটি আরো দশ ফুট সংকোচিত হয়ে গেল।
-এইতো প্রায় হয়ে গেল। এখন পাঁচ ফুট।
একেবারেই উপযুক্ত! বানর বলল। সে রাসায়নিক কর্মীকে সবলে উত্তোলন করলো, এবং বললো, এটার ওজন আগের মতো হয়ে যাও! যখন তারা প্রাসাদের আঙ্গিনা দিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন তখন বানর কিছু বিশ্বাস করানো এবং ঠেকানোর চর্চা করার চেষ্টা করলেন। ড্রাগন রাজার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো এবং রেঞ্জের উপরে দিয়ে লাফ দিলেন।ভাইজান, দয়া করে সতর্ক হোন!
বানর বলল, আমি বিশ্বাস করি এই ছোট্ট সৌন্দর্য আমার চাওয়া মতো যে কোন কিছু করতে পারে। সে আদেশ দিলো, বেড়ে যাও!
সাথে সাথে বানর এবং কর্মীসহ ছোট থেকে দুশো ফুট লম্বা হয়ে গেল।
এটি নাও এবং ওইটিই! একজন কাল্পনিক শত্রæর মতো দোল খেয়ে তিনি চিৎকার দিলেন, পানি এতো ভয়ংকরভাবে ঘোরে উঠল যে ড্রাগন রাজার দূরে গিয়ে ছিৎকে পড়ল।
এবার বানর বলল, সংকোচিত হও! বানর এবং রাসায়নিক কর্মী দ্রæত সাধারণ উচ্চতায় ফিরে আসলো।
অধিকতর ছোট হও! এবার কর্মী একাই সুঁচের মতো ছোট হয়ে গেল। বানর এটিকে সবার সামনে নিরাপদে তার কানে ঢুকিয়ে নিল। এবার সে ড্রাগন রাজার দিকে তাকালো।তিনি এখন ভয়ানকভাবে কাঁপছে। ধন্যবাদ ভাইজান!

পান্থজন জাহাঙ্গীর : কথাশিল্পী সমালোচক ও অনুবাদক।

মন্তব্য করুন

এখানে মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন