সীমাবদ্ধতা… ।। পুবাকাশ

সীমাবদ্ধতা…
রূপান্তর: আলমগীর মোহাম্মদ

একদা একজন চ্যাম্পিয়ন পালোয়ান ছিলেন। তিনি প্রায় তিনশো ষাটটি কায়দা ও কৌশল আয়ত্ত করেছিলেন এবং বছরের একেকদিন একেকটা কৌশল প্রয়োগ করতেন। তিনি তাঁর জনৈক শিক্ষার্থীকে খুব পছন্দ করতেন, এবং তাঁকে একটা বাদে বাকিসব কায়দা-কৌশল শিখিয়েছিলেন। শেষ কৌশলটা শেখানোর দিন ঘনিয়ে আসলেই তিনি নানারকম ফন্দিফিকির ক’রে তারিখটা পিছিয়ে দিতেন।

ছেলেটি শারিরীক বল ও দক্ষতায় তার সমবয়সী অন্য সবার তুলনায় এগিয়ে ছিল এবং সমবয়সী কেউ তাকে মোকাবিলা করার সাহস করতো না। একদিন সে রাজার সামনে গর্ব করে ব’লে বসলোঃ “আমার ওস্তাদকে চ্যালেঞ্জ করছি না কারণ তিনি বয়সে আমার মুরুব্বি এবং তাঁকে আমি গুরু হিসেবে শ্রদ্ধা করি। শক্তি ও দক্ষতায় আমি তাঁর চেয়ে কোন অংশে কম নই, বরং সমান। ”

রাজা তাঁর এই ধৃষ্টতা পছন্দ করলেন না এবং একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আয়োজনের নির্দেশ দিলেন। রাজার সহযোগিরা অতিদ্রুত সময়ে মল্লযুদ্ধের জন্য বড় মাঠটা খালি করলেন এবং রাজ্যের সুশীল সমাজ, অমাত্যবর্গ, মন্ত্রী ও ক্রীড়াবিদদের জড়ো করলেন।

ছেলেটি রিংয়ের ভেতর পাগলা হাতির মতো ক্ষেপে ছিল এবং তাঁর গুরুকে মোকাবিলার আহবান জানালো। গুরু জানতেন তাঁর ছাত্র শক্তি-সামর্থ্যে তাঁকে ছাড়িয়ে যাবার মতো যথেষ্ট নয়। তাই তিনি তিনশো ষাটতম কৌশলটি প্রয়োগ করলেন যেটা তিনি তাকে শেখাননি। ছেলেটি পাল্টা আক্রমণ করতে অসমর্থ হলো কারণ কৌশলটা তাঁর জানা ছিলো না। অসহায়ত্ব ফুটে উঠল তার চেহারায়। গুরু তাঁকে দুই হাতে জব্দ ক’রে মাথার উপর তুলে একটা আছাড় দিলেন। উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়লো।

রাজা চ্যাম্পিয়ন যোদ্ধাকে অভিনন্দিত করলেন এবং তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করলেন। ছেলেটিকে তিনি বকে দিলেনঃ ” তুমি তোমার গুরুকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছিলে, এবং উচিত শিক্ষা পেয়েছ। তুমি দেখতে পেলে তোমার অহমিকা কত তুচ্ছ!”

ছেলেটি জবাব দিলোঃ ” হে প্রভু, তিনি শক্তিতে আমাকে পরাস্ত করতে পারেননি, বরং যে কৌশলটা আমাকে শেখাননি সেটা দিয়ে জিতেছেন। ”

জবাবে রাজা বললেনঃ ” আজকের মতো একটা দিনের জন্য তিনি এই কৌশলটা নিজের ঝুলিতে রেখেছিলেন । তুমি জানো না জ্ঞানীরা কি বলেছেন? ” বন্ধুকে এমন কোন শিক্ষা-সুযোগ দিবে না যেটা দিয়ে সে তোমার ক্ষতি করতে পারে।”

গুরু তাঁর শিষ্যের আচরণে আহত হয়ে বললেনঃ ” আসলে এই দুনিয়ায় আনুগত্য বলে কিছু নেই, আজকের দিনে কারো মাঝে এর চর্চা নেই। যেই আমার কাছে কৌশল শিখেছে, সে এসেছে আমাকে অপদস্ত করতে।”

[আফগানিস্তান অনলাইন থেকে সংগৃহীত। ]

আলমগীর মোহাম্মদ: শিক্ষক,ইংরেজি বিভাগ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য করুন

এখানে মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন